চলুন ঘুরি ঢাকা শহর | ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থান

 

ভ্রমণ পিপাসু বন্ধুরা কেমন আছেন আপনারা আশা করি খুব ভালো আছেন।  বাংলাদেশ কিন্তু একটি অত্যন্ত সুজলা সুফলা দেশের মধ্যে একটি বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে নানা রকম দর্শনীয় স্থান, কিছু কিছু দর্শনীয় স্পট গুলো প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট আবার বেশ কিছু স্থান তৈরি হয়েছে অনেক জ্ঞানী গুনি ব্যক্তিদের হাত ধরে কিংবা তাদের স্মরণে।  বাংলাদেশের সৌন্দর্য্য কিন্তু বলে শেষ করা যাবে না।  তারপরও আমরা চেষ্টা করবো আপনাদের আমাদের সোনার বাংলার বেশ কিছু সৌন্দর্য আপনাদের সামনে তুলে ধরার আমাদের কয়েকটি ব্লগের মাধ্যমে  এবং শেষে এও বলব আপনি কেন ওই স্থানটিতে যাবেন এবং গেলে কি কি জানতে পারবেন।  তো চলুন শুরু করা যাক আজকে আমাদের বাংলাদেশের রাজধানী 'ঢাকা' দিয়ে।

ঢাকার আয়তন: ঢাকার আকার সামান্য পরিবর্তনশীল, কারণ এটি শহরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নগর (ঢাকা মেট্রোপলিটন সিটি) এবং ঢাকা জেলা দুটি এলাকা থেকে গঠিত। ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার আওতাভুক্ত আয়তন প্রায় ৳৩,৫৩৬ বর্গ কিলোমিটার (প্রায় ১,৩৩৪ বর্গ মাইল)
২০২৩ সালে  যার আয়তন দাড়িয়েছে  ১৪৬৩.৬০ বর্গ কিলোমিটার (৫৬৫ বর্গমাইল)।

লালবাগ কেল্লা:- 

ঢাকার দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে নির্মিত অসমাপ্ত একটি কেল্লা ।
বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে লালবাগ কেল্লা মুঘল আমলের ঐতিহাসিক নিদর্শন।
এটি পুরোনো ঢাকার লালবাগে অবস্থিত একটি দুর্গ।
এই কেল্লার পূর্ব নাম- আওরঙ্গবাদ দুর্গ।
সম্রাট আওরঙ্গজেবের তৃতীয় পুত্র শাহজাদা মোহম্মদ আযম শাহ ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। সুবেদার শায়েস্তা খাঁর আমলে এর নির্মাণ কাজ অব্যাহত থাকে। তার কন্যা পরিবিবি (প্রকৃত নাম হরান দুখত) এর মৃত্যুর পর ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন।
কেল্লা এলাকাতে পরিবিবির সমাধি অবস্থিত। কেল্লার উত্তর-পশ্চিমাংশে বিখ্যাত শাহী মসজিদ অবস্থিত।

লালবাগ কেল্লার চারপাশে প্রাচীন প্রাকৃতিক অবস্থানের উপর নির্মিত, সিমেট্রিক মুঘল স্টাইলের কেল্লা। এটি আধিকারিক নামে "লালবাগ ফোর্ট" নামেও পরিচিত। কেল্লাটির মৌলিক উচ্চতা প্রায় ৮০ ফুট এবং বাড়িটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র  হিসেবে পরিচিত।

লালবাগ কেল্লার একটি প্রধান আকর্ষণ হলো ইস্লামিক বিশেষজ্ঞ প্রিন্স আজিমুশান এর মৌলিক বিশেষজ্ঞতা এবং সৌন্দর্য্যবাদের জন্য ডিজাইন করা একটি উপবন। আপনি এখানে প্রাচীন মুঘল সংকল্পনা, অক্ষতিপ্রাপ্ত ইস্লামিক আর্কিটেকচার এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।

লালবাগ কেল্লা হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান এবং পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণ।

কি কি জানতে পারবেন এবং কেন যাবেন:-

এখানে গেলে আপনি মুগল ইতিহাস, সংস্কৃতি তাদের আসবাবপত্র,  সাম্রাজ্যের ইতিহাস এবং মুঘল পরিবারের  ধারণা পাবেন। যা একজন নাগরিক হিসেবে জানা অতীব প্রয়োজন।

আহসান মঞ্জিল:-

আহসান মঞ্জিল বাংলাদেশের ঢাকা শহরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ভবনের নাম। এটি ঢাকা শহরের পান্থপথে   অবস্থিত এটি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। আহসান মঞ্জিলটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে নির্মিত হয়েছিল এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছিলো।

আহসান মঞ্জিলটি বাংলাদেশের প্রশাসনিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, এবং এটি বর্তমানে একটি জাদুঘর হিসেবেও পরিচালিত হয়। এটি বিশ্ব ধারাপ্রণালীতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সম্মান প্রাপ্ত করেছে বাংলাদেশকে এবং পর্যটকদের সার্থক স্থানে এটি পরিণত হয়েছে।

আহসান মঞ্জিল একটি সুন্দর স্থাপনা, একটি ঐতিহাসিক প্রাচীনতা এবং সাংস্কৃতিক দ্বীপ।

কি কি জানতে পারবেন এবং কেন যাবেন:-

এখানে গেলে আপনি বাংলার পূর্ববর্তী ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং যেহেতু এটি বাংলার একটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভবন তাই অবশ্যই একজন নাগরিক হিসেবে এর ইতিহাস জানা আপনার দায়িত্ব এবং কর্তব্য।

শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম :-

শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম টি বাংলার বাঘেদের নিজস্ব স্টেডিয়াম এটি ২০০৬ সালে স্থাপিত হয়। এর পূর্ববর্তী নাম মিরপুর স্টেডিয়াম থাকলেও বর্তমানে এটির বাংলাদেশ সরকার নাম দিয়েছে "শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম " এটি মিরপুর ৬ নাম্বার সেক্টরে অবস্থিত। এই ক্রিকেট স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণ ক্ষমতা ২৬০০০।  এখানে টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ম্যাচ হয়ে থাকে। 

কি কি জানতে পারবেন এবং কেন যাবেন:-

এখানে গেলে আপনি ধারনা পাবেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় একটি খেলা ক্রিকেট সম্পর্কে এবং দেশের যুবক-যুবতী,প্রবীন-নবীন সকলে ক্রিকেট খেলা পছন্দ করে। খেলা সম্পর্কে আপনার যদি কোন প্রকার ইন্টারেস্ট থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই এখানে যাবেন।

জাতীয় জাদুঘর:-

ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর দেশের অন্যতম বিশিষ্ট এবং ব্যাপক জনপ্রিয় জাদুঘর গুলোর মধ্যে একটি। এখানে জাদুঘর সম্পর্কে কিছু তথ্য রয়েছে:

1. প্রতিষ্ঠা: বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘরটি 7 আগস্ট, 1913 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি বাংলাদেশের প্রাচীনতম জাদুঘরগুলির মধ্যে একটি।

2. অবস্থান: জাদুঘর টি শাহাবাগ মোড়ের সন্নিকটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়,রমনা পার্ক ও চারুকলা ইনস্টিটিউট এর পাশে অবস্থিত।

3. সংগ্রহ: জাদুঘরটিতে ঐতিহাসিক, প্রত্নতাত্ত্বিক, এবং শৈল্পিক নিদর্শনগুলির একটি বিস্তৃত অংশ সংগ্রহে রয়েছে এখানে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাচীন, মধ্যযুগীয় এবং আধুনিক সময়ের বিভিন্ন সামগ্রী, পাশাপাশি লোকশিল্প ও কারুশিল্পের একটি চিত্তাকর্ষক।

4. বিভাগ: যাদুঘরটি কয়েকটি বিভাগে বিভক্ত, প্রত্যেকটি বিভাগের নিদর্শন রয়েছে আলাদা আলাদা ৷ এই বিভাগগুলির মধ্যে রয়েছে প্রত্নতত্ত্ব, চারুকলা, ইতিহাস এবং নৃতাত্ত্বিক, অন্যতম।

5. উল্লেখযোগ্য প্রদর্শনী: জাতীয় জাদুঘরে পাহাড়পুর এবং চন্দ্রকেতুগড়ের ভাস্কর্য, মুঘল চিত্রকর্ম এবং ঐতিহাসিক রাজকীয় বেঙ্গল টাইগারের প্রতিরূপ সহ অনেকগুলি উল্লেখযোগ্য প্রদর্শনী রয়েছে। এটিতে একটি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরও রয়েছে যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামকে স্মরণ করিয়ে দেয় আমাদের ।

6. সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত কেন্দ্র: বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রচারে জাদুঘরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি একটি শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবেও কাজ করে, যা বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে আগ্রহী ছাত্র, গবেষক এবং পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

7. সংস্কার: বছরের পর বছর ধরে, যাদুঘরটি এর সুবিধা এবং প্রদর্শনী উন্নত করার জন্য সংস্কার ও সম্প্রসারণ করেছে। এই প্রচেষ্টার লক্ষ্য দর্শকদের অভিজ্ঞতা বাড়ানো এবং মূল্যবান নিদর্শন সংরক্ষণ করা

বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর দেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস, শিল্প ও সংস্কৃতি বোঝার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের ঐতিহ্য অন্বেষণে আগ্রহী স্থানীয় এবং পর্যটক উভয়ের জন্যই এটি একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। বাংলার পূর্ব ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হলে অবশ্যই আপনাকে জাদুঘরে একবার হলেও যেতে হবে।

জাতীয় চিড়িয়াখানা:-

চিড়িয়াখানা শব্দটি শুনলেই আমাদের মনে ভেসে ওঠে বাঘ, ভাল্লুক, শিয়াল, হাতি, ঘোড়া, জেব্রা, জিরাফ, সাপ কিংবা বানরের দুষ্টুমির কথা কি তাই না চলুন জাতীয় চিড়িয়াখানা সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেই।

বাংলাদেশের জাতীয় চিড়িয়াখানা, যা "বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা" নামে পরিচিত, গড়ে তোলা হয়েছে ১৯৭৫ সালে। এটি ঢাকা শহরে সাভার উপজেলার মিরপুর এলাকায় অবস্থিত এবং বাংলাদেশের মূল চিড়িয়াখানা হিসেবে পরিচিত। এই চিড়িয়াখানাটিতে নানা প্রজাতির পশু-পাখি এবং জীবজন্তু দেখানোর উদ্দেশ্যে স্থাপন করা হয়েছে এবং পরিচালিত হয়।

কি কি জানতে পারবেন এবং কেন যাবেন:-

চিড়িয়াখানাগুলি মানুষকে, বিশেষ করে শিশুদের, সারা বিশ্বের প্রাণীদের সম্পর্কে জানার সুযোগ দেয়। তারা প্রায়ই তথ্য প্রদর্শন, নির্দেশিত ট্যুর, এবং শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম অফার করে দর্শকদের পশু আচরণ, আবাসস্থল এবং সংরক্ষণ সম্পর্কে শেখানোর জন্য।

এই ছিলো ঢাকার বেশ কিছু জনপ্রিয় স্থান সম্পর্কে আমাদের আজকের আয়োজন, আবারো দেখা হবে বাংলাদেশের নতুন কোন জায়গা নিয়ে। এছাড়া আপনারাও কমেন্টে জানাতে পারেন কোন স্থান সম্পর্কে জানতে চান।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url